আক্বিদা

আল্লাহ তায়ালা সম্পর্কে মক্কার মুশরিকদের বিশ্বাস

ইজহারুল ইসলাম রবি, 12 সেপ্টে., 2021
42

মক্কার মুশরিকরা এককভাবে আল্লাহ তায়ালাকে রব বা ইলাহ হিসেবে বিশ্বাস করত না। তারা তাউহিদ বা এককত্বে বিশ্বাসী ছিলো না। পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন জায়গায় মক্কার মুশরিকদের আকিদা বিশ্বাস তুলে ধরা হয়েছে। তবে তাদের সকলেই একই বিশ্বাসের উপর ছিল না। তাদের মধ্যে বিভিন্ন ধরণের বিশ্বাস প্রচলিত ছিল। অধিকাংশই মূর্তি পূজা করত।

এছাড়াও আরও কিছু বিশ্বাস তাদের মধ্যে ছিল।

১। মক্কার মুশরিকদের কেউ কেউ ফেরেশতাদেরকে আল্লাহর কন্যা বিশ্বাস করে তাদের পুজা করত।

২। কেউ ছিল দাহরিয়া। তাদের বিশ্বাস ছিল, কাল বা সময় তাদেরকে ধ্বংস করে। কেউ কেউ মুলহিদ ছিল। এরা আল্লাহর অস্তিত্ব স্বীকার করত না।

৩। অনেকে গ্রহ-নক্ষত্রের পুজা করত।

৪। কেউ কেউ জিন ও শয়তানের পুজা করত।

৫। আরবদের কেউ কেউ অগ্নি পুজা করত।মক্কার মুশরিকরা আল্লাহ সম্পর্কে কী ধরণের বিশ্বাস রাখত সেগুলো আমরা পবিত্র কুরআন থেকে উল্লেখ করছি।

# মুশরিকরা তাদের রব বা ইলাহ সম্পর্কে বিশ্বাস করত যে, এরা নিজেদের ক্ষমতায় তাদের উপকার ও ক্ষতি করতে পারে।

এসব মূর্তি তাদের সম্মান ও ইজ্জতের মালিক।

সুরা মারইয়ামে আল্লাহ তায়ালা এদের সম্পর্কে বলেছেন, وَاتَّخَذُوا مِن دُونِ اللَّهِ آلِهَةً لِّيَكُونُوا لَهُمْ عِزًّاতারা আল্লাহ ব্যতীত অন্যান্য ইলাহ গ্রহণ করেছে, যাতে তারা তাদের জন্যে সাহায্যকারী হয়। [ সুরা মারঈয়াম ১৯:৮১ ]

كَلَّا سَيَكْفُرُونَ بِعِبَادَتِهِمْ وَيَكُونُونَ عَلَيْهِمْ ضِدًّا

কখনই নয়, তারা তাদের এবাদত অস্বীকার করবে এবং তাদের বিপক্ষে চলে যাবে। [ সুরা মারঈয়াম ১৯:৮২ ]

ইবনে কাসির রহ: এই আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখেছেন,

يخبر تعالى عن الكفار المشركين بربهم : أنهم اتخذوا من دونه آلهة ، لتكون تلك الآلهة {عِزًّا} يعتزون بها ويستنصرونها

আল্লাহ তায়ালা কাফের মুশরিকদের সম্পর্কে বলেছেন, তারা আল্লাহকে ছেড়ে তাদের সাহায্যকারি হিসেবে অন্য উপাস্য গ্রহণ করেছে। এদের কাছে তারা সাহায্যের আবেদন করে থাকে। তাফসিরে ইবনে কাসির –https://goo.gl/Moh5ek

ইমাম কুরতুবি রহ: তার তাফসিরে লিখেছেন, মক্কার মুশরিকরা তাদের রব বা ইলাহকে তাদের সাহায্যকারী মনে করত। এরা বিশ্বাস করত, তাদের এসব ইলাহ তাদেরকে আল্লাহর শাস্তি থেকে রক্ষা করবে।

ইমাম কুরতুবি রহ: এর বক্তব্যের আরবি পাঠ- قوله تعالى: (وَاتَّخَذُوا مِنْ دُونِ اللَّهِ آلِهَةً لِيَكُونُوا لَهُمْ عِزًّا) يعني مشركي قريش. و” عِزًّا” معناه أعوانا , ومنعة يعني أولاداً. والعز المطر الجود أيضا قاله الهروي.
وظاهر الكلام أن” عِزًّا” راجع إلى الآلهة التي عبدوها من دون الله. ووحد لأنه بمعنى المصدر , أي لينالوا بها العز ويمتنعون بها من عذاب الله

তাফসিরে কুরতুবি – https://goo.gl/RPKkxd

মোটকথা তারা বিশ্বাস করত, তাদের রব বা ইলাহদের নিজস্ব ক্ষমতা আছে। এই শক্তি ও ক্ষমতার মাধ্যমে তারা সাহায্য করবে। আল্লাহর আজাব আসলে আল্লাহর আজাব থেকে তাদেরকে রক্ষা করবে।

সুরা ইয়াসিনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,

وَاتَّخَذُوا مِن دُونِ اللَّهِ آلِهَةً لَعَلَّهُمْ يُنصَرُونَ

তারা আল্লাহর পরিবর্তে অনেক উপাস্য গ্রহণ করেছে যাতে তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হতে পারে। [ সুরা ইয়া-সীন ৩৬:৭৪ ]

ইমাম খাজিন রহ: তার তাফসিরে লিখেছেন,

{ واتخذوا من دون الله آلهة} يعني الأصنام { لعلهم ينصرون} أي لتمنعهم من عذاب الله ولا يكون ذلك قط { لا يستطيعون نصرهم } قال ابن عباس : لا تقدر الأصنام على نصرهم ومنعهم من العذاب

তারা আল্লাহর পরিবর্তে মূ্র্তিকে ইলাহ বা রব হিসেবে গ্রহন করেছে যাতে তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হতে পারে। অর্থাৎ এসব মূ্র্তি যেন তাদেরকে আল্লাহর আজাব থেকে রক্ষা করে। তবে তাদের এই আশা কখনও পূর্ণ হবে না। তাদের উপাস্যরা আল্লাহর বিপরীতে কখনও তাদেরকে সাহায্য করতে পারবে না ।

ইবনে আব্বাস রাজি: বলেন, মূ্তিরা তাদেরকে সাহায্য করতে পারবে না এবং আল্লাহর আজাব থেকে রক্ষা করতে পারবে না।

# সুরা নিসায় আল্লাহ তায়ালা বলেন,

إِنَّ اللّهَ لاَ يَغْفِرُ أَن يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَن يَشَاء وَمَن يُشْرِكْ بِاللّهِ فَقَدْ ضَلَّ ضَلاَلاً بَعِيدًا

নিশ্চয় আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন না, যে তাঁর সাথে কাউকে শরীক করে। এছাড়া যাকে ইচ্ছা, ক্ষমা করেন। যে আল্লাহর সাথে শরীক করে সে সুদূর ভ্রান্তিতে পতিত হয়। [ সুরা নিসা ৪:১১৬ ]

إِن يَدْعُونَ مِن دُونِهِ إِلاَّ إِنَاثًا وَإِن يَدْعُونَ إِلاَّ شَيْطَانًا مَّرِيدًا

তারা আল্লাহকে পরিত্যাগ করে শুধু নারীর আরাধনা করে এবং শুধু অবাধ্য শয়তানের পূজা করে। [ সুরা নিসা ৪:১১৭ ]

এই আয়াত থেকে স্পষ্ট যে মুশরিকরা আল্লাহকে ছেড়ে নারী মূর্তি ও শয়তানের পূজা করত।

# সুরা আনকাবুতে আল্লাহ তায়ালা বলেন,

مَثَلُ الَّذِينَ اتَّخَذُوا مِن دُونِ اللَّهِ أَوْلِيَاء كَمَثَلِ الْعَنكَبُوتِ اتَّخَذَتْ بَيْتًا وَإِنَّ أَوْهَنَ الْبُيُوتِ لَبَيْتُ الْعَنكَبُوتِ لَوْ كَانُوا يَعْلَمُونَ

যারা আল্লাহর পরিবর্তে অপরকে সাহায্যকারীরূপে গ্রহণ করে তাদের উদাহরণ মাকড়সা। সে ঘর বানায়। আর সব ঘরের মধ্যে মাকড়সার ঘরই তো অধিক দুর্বল, যদি তারা জানত। [ সুরা আনকাবুত ২৯:৪১ ]

এ আয়াতের ব্যাখ্যায় ইবনে কাসির রহ: লিখেছেন,

هذا مثل ضربه الله تعالى للمشركين في اتخاذهم آلهة من دون الله ، يرجون نصرهم ورزقهم ، ويتمسكون بهم في الشدائد، فهم في ذلك كبيت العنكبوت في ضعفه ووهنه

এ আয়াতে আল্লাহকে ছেড়ে অন্য ইলাহ গ্রহণের বিষয়ে আল্লাহ তায়ালা মুশরিকদের উদ্দেশ্যে একটি উদাহরণ দিয়েছেন। মুশরিকরা তাদের এসব ইলাহদের কাছে সাহায়্য চাইত। তাদের কাছে রিজিক চাইত। বিপদ আপদে তাদেরকে স্মরণ করে সাহায্যের আবেদন করত। মুশরিকদের এসব কাজ মাকড়সার বাসার মতই দুর্বল। তাফসিরে ইবনে কাসির-https://goo.gl/13qBB7

# মক্কার মুশরিকরা রাসূল স: কে তাদের উপাস্য মূর্তির ভয় দেখাত। রাসুল স: তাদের রব বা ইলাহদের বিরুদ্ধে অবস্থানের কারণে তারা ভয় দেখাত যে তাদের ইলাহ তার ক্ষতি করবে ।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,

أَلَيْسَ اللَّهُ بِكَافٍ عَبْدَهُ وَيُخَوِّفُونَكَ بِالَّذِينَ مِن دُونِهِ وَمَن يُضْلِلِ اللَّهُ فَمَا لَهُ مِنْ هَادٍ

আল্লাহ কি তাঁর বান্দার পক্ষে যথেষ্ট নন? অথচ তারা আপনাকে আল্লাহর পরিবর্তে অন্যান্য উপাস্যদের ভয় দেখায়। আল্লাহ যাকে গোমরাহ করেন, তার কোন পথপ্রদর্শক নেই। [ সুরা যুমার ৩৯:৩৬ ]

# মক্কার মুশরিকরা তাদের উপাস্যদের কাছে রিজিক চাইত। অথচ এসব মূর্তি কখনও রিজিক দেয়ার ক্ষমতা রাখে না। আল্লাহ তায়ালা তাদের এই ধারণা খন্ডন করে বলেছেন,

إِنَّمَا تَعْبُدُونَ مِن دُونِ اللَّهِ أَوْثَانًا وَتَخْلُقُونَ إِفْكًا إِنَّ الَّذِينَ تَعْبُدُونَ مِن دُونِ اللَّهِ لَا يَمْلِكُونَ لَكُمْ رِزْقًا فَابْتَغُوا عِندَ اللَّهِ الرِّزْقَ وَاعْبُدُوهُ وَاشْكُرُوا لَهُ إِلَيْهِ تُرْجَعُونَ

তোমরা তো আল্লাহর পরিবর্তে কেবল প্রতিমারই পূজা করছ এবং মিথ্যা উদ্ভাবন করছ। তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের এবাদত করছ, তারা তোমাদের রিযিকের মালিক নয়। কাজেই আল্লাহর কাছে রিযিক তালাশ কর, তাঁর এবাদত কর এবং তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। তাঁরই কাছে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে। [ সুরা আনকাবুত ২৯:১৭ ]

এ আয়াতের ব্যাখ্যায় ইবনে জারির ত্ববারি রহ: লিখেছেন,

وقوله: (إِنَّ الَّذِينَ تَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ لا يَمْلِكُونَ لَكُمْ رِزْقًا) يقول جلّ ثناؤه: إن أوثانكم التي تعبدونها، لا تقدر أن ترزقكم شيئا . ( فَابْتَغُوا عِنْدَ اللَّهِ الرِّزْقَ ) يقول: فالتمسوا عند الله الرزق لا من عند أوثانكم

আল্লাহ তায়ালা এ আয়াতে বলছেন, তোমরা যেসব মূর্তির পূজা করো, তারা তোমাদেরকে রিজিক দিতে সক্ষম নয়। “কাজেই আল্লাহর কাছে রিযিক তালাশ কর” এ অংশে আল্লাহ তায়ালা বলছেন, তোমরা আল্লাহর কাছে রিজিকের আবেদন করো। তোমাদের মূর্তির কাছে নয়।

# মক্কার মুশরিকরা বিশ্বাস করত, তাদের মূর্তি ও ইলাহরা তাদেরকে রক্ষা করবে। এমনকি আল্লাহর পক্ষ থেকে কোন আজাব আসলেও তাদের ইলাহরা তাদেরকে রক্ষা করবে। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে তাদের এই ধারণা খন্ডন করে বলেছেন,

أَمْ لَهُمْ آلِهَةٌ تَمْنَعُهُم مِّن دُونِنَا لَا يَسْتَطِيعُونَ نَصْرَ أَنفُسِهِمْ وَلَا هُم مِّنَّا يُصْحَبُونَ

তবে কি আমি ব্যতীত তাদের এমন দেব-দেবী আছে যারা তাদেরকে রক্ষা করবে? তারা তো নিজেদেরই সাহায্য করতে সক্ষম নয় এবং তারা আমার মোকাবেলায় সাহায্যকারীও পাবে না। [ সুরা আম্বিয়া ২১:৪৩]

সুরা হুদে আল্লাহ তায়ালা বলেন,

وَمَا ظَلَمْنَاهُمْ وَلَـكِن ظَلَمُواْ أَنفُسَهُمْ فَمَا أَغْنَتْ عَنْهُمْ آلِهَتُهُمُ الَّتِي يَدْعُونَ مِن دُونِ اللّهِ مِن شَيْءٍ لِّمَّا جَاء أَمْرُ رَبِّكَ وَمَا زَادُوهُمْ غَيْرَ تَتْبِيبٍ

আমি কিন্তু তাদের প্রতি জুলুম করি নাই বরং তারা নিজেরাই নিজের উপর অবিচার করেছে। ফলে আল্লাহকে বাদ দিয়ে তারা যেসব মাবুদকে ডাকতো আপনার পালনকর্তার হুকুম যখন এসে পড়ল, তখন কেউ কোন কাজে আসল না। তারা শুধু বিপর্যয়ই বৃদ্ধি করল। [ সুরা হুদ ১১:১০১ ]

সুরা ইসরা-তে আল্লাহ তায়ালা বলেন,

قُلِ ادْعُواْ الَّذِينَ زَعَمْتُم مِّن دُونِهِ فَلاَ يَمْلِكُونَ كَشْفَ الضُّرِّ عَنكُمْ وَلاَ تَحْوِيلاً

বলুনঃ আল্লাহ ব্যতীত যাদেরকে তোমরা উপাস্য মনে কর, তাদেরকে আহবান কর। অথচ ওরা তো তোমাদের কষ্ট দুর করার ক্ষমতা রাখে না এবং তা পরিবর্তনও করতে পারে না। [ সুরা বনী-ইসরাঈল ১৭:৫৬ ]

ইবনে জারির রহ: এ আয়াতের তাফসিরে লিখেছেন,

يقول تعالى ذكره لنبيه محمد – صلى الله عليه وسلم- : قل يا محمد لمشركي قومك الذين يعبدون من دون الله من خلقه، ادعوا أيها القوم الذين زعمتم أنهم أرباب وآلهة من دونه عند ضرّ ينزل بكم، فانظروا هل يقدرون على دفع ذلك عنكم، أو تحويله عنكم إلى غيركم، فتدعوهم آلهة، فإنهم لا يقدرون على ذلك، ولا يملكونه، وإنما يملكه ويقدر عليه خالقكم وخالقهم

আল্লাহ তায়ালা তার প্রিয় হাবিবকে উদ্দেশ্য করে বলেন, হে মুহাম্মাদ, আপনার গোত্রের মুশরিকদেরকে বলুন, হে লোকসকল, আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা যাদেরকে ইলাহ ও রব মনে করো তোমাদের বিপদে তাদেরকে ডাকো। তোমরা দেখ, তারা তোমাদের বিপদ দূর করতে পারে কি না কিংবা তোমাদের থেকে বিপদ হটিয়ে অন্যদের উপর চাপিয়ে দিতে পারে কি না। তারা যদি এগুলো পারত, তাহলে তাদেরকে তোমরা ইলাহ বলতে। অথচ তারা এগুলো করতে সক্ষম নয়। তারা এর মালিকও নয়। বরং বিপদ দূর করার মালিক হলেন, তোমাদের ও তাদের সবার স্রষ্টা আল্লা তায়ালা।

# মক্কার মুশরিকরা আল্লাহর বড়ত্ব ও ক্ষমতায় বিশ্বাসী ছিলো না। আল্লাহ তায়ালাকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা এমনকি গালি দেয়ার দু:সাহস রাখত তারা। তাদের অন্তরে আল্লাহর চেয়ে মূর্তির মর্যাদা ছিল বেশি। সুরা আনআমে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,

وَلاَ تَسُبُّواْ الَّذِينَ يَدْعُونَ مِن دُونِ اللّهِ فَيَسُبُّواْ اللّهَ عَدْوًا بِغَيْرِ عِلْمٍ كَذَلِكَ زَيَّنَّا لِكُلِّ أُمَّةٍ عَمَلَهُمْ ثُمَّ إِلَى رَبِّهِم مَّرْجِعُهُمْ فَيُنَبِّئُهُم بِمَا كَانُواْ يَعْمَلُونَ

তোমরা তাদেরকে মন্দ বলো না, যাদের তারা আরাধনা করে আল্লাহকে ছেড়ে। তাহলে তারা ধৃষ্টতা করে অজ্ঞতাবশতঃ আল্লাহকে মন্দ বলবে। এমনিভাবে আমি প্রত্যেক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে তাদের কাজ কর্ম সুশোভিত করে দিয়েছি। অতঃপর স্বীয় পালনকর্তার কাছে তাদেরকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। তখন তিনি তাদেরকে বলে দেবেন যা কিছু তারা করত। [ সুরা আন’য়াম ৬:১০৮ ]

তাফসিরে তবারিতে ইবনে জারির তবারি রহ: লিখেছেন, মক্কার মুশরিকরা রাসুল স: কে উদ্দেশ্য করে বলে, يامحمد ، لتنتهين عن سب آلهتنا، أو لنهجون ربك

হে মুহাম্মাদ, তুমি হয়ত আমাদের ইলাহদের মন্দ বলা থেকে বিরত হবে নতুবা আমরা তোমার রবের নিন্দা করব। তাদের সামনে এককভাবে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করলে তারা নাখোশ হত।

পবিত্র কুরআনে রয়েছে,

وَإِذَا ذُكِرَ اللَّهُ وَحْدَهُ اشْمَأَزَّتْ قُلُوبُ الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِالْآخِرَةِ وَإِذَا ذُكِرَ الَّذِينَ مِن دُونِهِ إِذَا هُمْ يَسْتَبْشِرُونَ

যখন এককভাবে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করা হয়, তখন যারা পরকালে বিশ্বাস করে না, তাদের অন্তর সংকুচিত হয়ে যায়, আর যখন আল্লাহ ব্যতীত অন্য উপাস্যদের নাম উচ্চারণ করা হয়, তখন তারা আনন্দে উল্লসিত হয়ে উঠে। [ সুরা যুমার ৩৯:৪৫ ]

সুরা বনী ইসরাইলে আল্লাহ তায়ালা বলেন,

وَإِذَا ذَكَرْتَ رَبَّكَ فِي الْقُرْآنِ وَحْدَهُ وَلَّوْاْ عَلَى أَدْبَارِهِمْ نُفُورًا

যখন আপনি কোরআনে পালনকর্তার একত্ব আবৃত্তি করেন, তখন অনীহাবশতঃ ওরা পৃষ্ট প্রদর্শন করে চলে যায়। [ সুরা বনী-ইসরাঈল ১৭:৪৬ ]

তাদের নিজেদের কাছে নিকৃষ্ট ও ঘৃণিত বিষয়ও তারা আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত করত। কন্যা সন্তান ছিল তাদের কাছে নিকৃষ্ট ও ঘৃণিত। নিজেদের জন্য তারা কন্যা সন্তান পছ্ন্দ করত না। অথচ তারা আল্লাহর জন্য কন্যা সাব্যস্ত করে বলত, ফেরেশতারা হল আল্লাহর কন্যা। কুরআনে আল্লাহ তায়ালা তাদের এই ঘৃণিত বিশ্বাসের কথা বিভিন্ন জায়গায় উল্লেখ করেছেন।

সুরা বনী ইসরাইলে আল্লাহ তায়ালা বলেন,

أَفَأَصْفَاكُمْ رَبُّكُم بِالْبَنِينَ وَاتَّخَذَ مِنَ الْمَلآئِكَةِ إِنَاثًا إِنَّكُمْ لَتَقُولُونَ قَوْلاً عَظِيمًا

তোমাদের পালনকর্তা কি তোমাদের জন্যে পুত্র সন্তান নির্ধারিত করেছেন এবং নিজের জন্যে ফেরেশতাদেরকে কন্যারূপে গ্রহণ করেছেন? নিশ্চয় তোমরা গুরুতর গর্হিত কথাবার্তা বলছ। [ সুরা বনী-ইসরাঈল ১৭:৪০ ]

মুশরিকরা আল্লাহর চেয়ে দেব-দেবিদেরকে বেশি সম্মান করত। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,

وَجَعَلُواْ لِلّهِ مِمِّا ذَرَأَ مِنَ الْحَرْثِ وَالأَنْعَامِ نَصِيبًا فَقَالُواْ هَـذَا لِلّهِ بِزَعْمِهِمْ وَهَـذَا لِشُرَكَآئِنَا فَمَا كَانَ لِشُرَكَآئِهِمْ فَلاَ يَصِلُ إِلَى اللّهِ وَمَا كَانَ لِلّهِ فَهُوَ يَصِلُ إِلَى شُرَكَآئِهِمْ سَاء مَا يَحْكُمُونَ

আল্লাহ যেসব শস্যক্ষেত্র ও জীবজন্তু সৃষ্টি করেছেন, সেগুলো থেকে তারা এক অংশ আল্লাহর জন্য নির্ধারণ করে অতঃপর নিজ ধারণা অনুসারে বলে এটা আল্লাহর এবং এটা আমাদের অংশীদারদের। অতঃপর যে অংশ তাদের অংশীদারদের, তা তো আল্লাহর দিকে পৌঁছে না এবং যা আল্লাহর তা তাদের উপাস্যদের দিকে পৌছে যায়। তাদের বিচার কতই না মন্দ। [ সুরা আন’য়াম ৬:১৩৬ ]

এ আয়াতে আল্লাহ তায়ালা মুশরিকদের অন্তরে আল্লাহর মর্যাদা কেমন ছিল, সেটি তুলে ধরেছেন। মুশরিকরা তাদের ফসলের একটি অংশ আল্লাহর জন্য রাখত এবং একটি অংশ তাদের দেব-দেবির জন্য রাখত। কখনও আল্লাহর অংশের কোন ফসল বা ফল যদি দেব-দেবির অংশে চলে যেত, তাহলে তারা দেব-দেবির অংশেই তা রেখে দিত। কিন্ত দেব-দেবির অংশের কোন কিছু যদি আল্লাহর অংশে চলে যেত, তাহলে তারা সেটি দেব-দেবির অংশে ফিরিয়ে দিত। আল্লাহর চেয়ে এদের অন্তরে প্রতিমার মর্যাদা ছিল বেশি। এজন্য আল্লাহর অংশের কোন ফসল প্রতিমার অংশে গেলে তারা তা কখনও ফিরিয়ে আনত না। কিন্ত প্রতিমার অংশেরটা ঠিকই ফিরিয়ে আনত। আল্লাহ তায়ালা এদের এই নিকৃষ্ট কাজকে মন্দ বিচার আখ্যায়িত করেছেন। উহুদের ময়দানে মুসলমানদের উপর বিজয়ী হয়ে আবু সুফিয়ান(রাযি:) হুবাল মূর্তির বন্দনা করেছিল। রাসুল স: প্রতি উত্তরে বলেছিলেন, আল্লাহ মহান।

# মক্কার মুশরিকদের কেউ কেউ আল্লাহকে অস্বীকার করত । অনেকে আল্লাহর সমকক্ষ সাব্যস্ত করত। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,

قُلْ أَئِنَّكُمْ لَتَكْفُرُونَ بِالَّذِي خَلَقَ الْأَرْضَ فِي يَوْمَيْنِ وَتَجْعَلُونَ لَهُ أَندَادًا ذَلِكَ رَبُّ الْعَالَمِينَ

বলুন, তোমরা কি সে সত্তাকে অস্বীকার কর যিনি পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন দু’দিনে এবং তোমরা কি তাঁর সমকক্ষ স্থীর কর? তিনি তো সমগ্র বিশ্বের পালনকর্তা। [ সুরা হা-মীম ৪১:৯ ]

অন্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন,

الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ الأَرْضَ فِرَاشاً وَالسَّمَاء بِنَاء وَأَنزَلَ مِنَ السَّمَاء مَاء فَأَخْرَجَ بِهِ مِنَ الثَّمَرَاتِ رِزْقاً لَّكُمْ فَلاَ تَجْعَلُواْ لِلّهِ أَندَاداً وَأَنتُمْ تَعْلَمُونَ

যে পবিত্রসত্তা তোমাদের জন্য ভূমিকে বিছানা এবং আকাশকে ছাদ স্বরূপ স্থাপন করে দিয়েছেন, আর আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করে তোমাদের জন্য ফল-ফসল উৎপাদন করেছেন তোমাদের খাদ্য হিসাবে। অতএব, আল্লাহর সাথে তোমরা অন্য কাকেও সমকক্ষ করো না। বস্তুতঃ এসব তোমরা জান। [ সুরা বাকারা ২:২২ ]

মুশরিকরা তাদের মূর্তিকে আল্লাহর সমকক্ষ সাব্যস্ত করত এবং এগুলোকে আল্লাহর মত মহব্বত করত। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,

وَمِنَ النَّاسِ مَن يَتَّخِذُ مِن دُونِ اللّهِ أَندَاداً يُحِبُّونَهُمْ كَحُبِّ اللّهِ وَالَّذِينَ آمَنُواْ أَشَدُّ حُبًّا لِّلّهِ

আর কোন লোক এমনও রয়েছে যারা অন্যান্যকে আল্লাহর সমকক্ষ সাব্যস্ত করে এবং তাদের প্রতি তেমনি ভালবাসা পোষণ করে, যেমন আল্লাহর প্রতি ভালবাসা হয়ে থাকে। কিন্তু যারা আল্লাহর প্রতি ঈমানদার তাদের ভালবাসা ওদের তুলনায় বহুগুণ বেশী। [ সুরা বাকারা ২:১৬৫ ]

# মুশরিকরা আল্লাহর একচ্ছত্র ক্ষমতায় বিশ্বাসী ছিলো না। তারা আল্লাহর পরিপূর্ণ ক্ষমতার কথা স্বীকার করত না। আল্লাহ তায়ালা বলেন,

وَمَا قَدَرُواْ اللّهَ حَقَّ قَدْرِهِ إِذْ قَالُواْ مَا أَنزَلَ اللّهُ عَلَى بَشَرٍ مِّن شَيْءٍ

তারা আল্লাহকে যথার্থ মূল্যায়ন করতে পারেনি, যখন তারা বললঃ আল্লাহ কোন মানুষের প্রতি কোন কিছু অবতীর্ণ করেননি। [ সুরা আন’য়াম ৬:৯১ ]

সুরা ঝুমারে একই ধরণের বক্তব্য রয়েছে।

وَمَا قَدَرُواْ اللّهَ حَقَّ قَدْرِهِ

তারা আল্লাহকে যথার্থ মূল্যায়ন করতে পারেনি।

এ আয়াতের ব্যাখ্যায় ইমাম ত্ববারি রহ: ইবনে আব্বাস রাযি: থেকে একটি বর্ণনা উল্লেখ করেছেন। ইবনে আব্বাস রাযি: বলেন,

هم الكفار الذين لم يؤمنوا بقدرة الله عليهم!، فمن آمن أن الله على كل شيء قدير، فقد قدر الله حق قدره، ومن لم يؤمن بذلك، فلم يقدر الله حق قدره.

অর্থাৎ এ আয়াতে আল্লাহ তায়ালা সেসব কাফেরদের উদ্দেশ্য করেছেন, যারা আল্লাহর ক্ষমতায় বিশ্বাসী ছিলো না। যে বিশ্বাস করল, আল্লাহ তায়ালা সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান, সে আল্লাহকে যথার্থ মূল্যায়ন করল। আর যে এটি বিশ্বাস করল না, সে আল্লাহকে থার্থ মূল্যায়ন করল না।

মোটকথা, মক্কার মুশরিকরা আল্লাহ তায়ালাকে এককভাবে রব বা ইলাহ হিসেবে স্বীকার করত না। দেব-দেবি ও প্রতিমাকে আল্লাহর সমকক্ষ বিশ্বাস করত। তারা মনে করত, দেব-দেবিরা তাদেরকে আল্লাহর আজাব থেকে রক্ষা করবে। আল্লাহর পরিপূর্ণ ক্ষমতায় তারা বিশ্বাসী ছিলো না। পৃথিবী পরিচালনায় দেব-দেবিদেরকে আল্লাহর অংশীদার মনে করত। তারা বিশ্বাস করত, আল্লাহর অনুমতি ছাড়াই এসব প্রতিমা তাদের জন্য আল্লাহর দরবারে সুপারিশ করবে।

পরকালে আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে পুনরায় জীবিত করবেন, এ বিশ্বাস ছিল তাদের কাছে হাস্যকর। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,

وَهُوَ الَّذِي أَنشَأَ لَكُمُ السَّمْعَ وَالْأَبْصَارَ وَالْأَفْئِدَةَ قَلِيلًا مَّا تَشْكُرُونَ

তিনি তোমাদের কান, চোখ ও অন্তঃকরণ সৃষ্টি করেছেন; তোমরা খুবই অল্প কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে থাক। [ সুরা মু’মিনুন ২৩:৭৮ ]

وَهُوَ الَّذِي ذَرَأَكُمْ فِي الْأَرْضِ وَإِلَيْهِ تُحْشَرُونَ

তিনিই তোমাদেরকে পৃথিবীতে ছড়িয়ে রেখেছেন এবং তারই দিকে তোমাদেরকে সমবেত করা হবে। [ সুরা মু’মিনুন ২৩:৭৯ ]

وَهُوَ الَّذِي يُحْيِي وَيُمِيتُ وَلَهُ اخْتِلَافُ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ أَفَلَا تَعْقِلُونَ

তিনিই প্রাণ দান করেন এবং মৃত্যু ঘটান এবং দিবা-রাত্রি র বিবর্তন তাঁরই কাজ, তবু ও কি তোমরা বুঝবে না? [ সুরা মু’মিনুন ২৩:৮০ ]

بَلْ قَالُوا مِثْلَ مَا قَالَ الْأَوَّلُونَ

বরং তারা বলে যেমন তাদের পূর্ববর্তীরা বলত। [ সুরা মু’মিনুন ২৩:৮১ ]

قَالُوا أَئِذَا مِتْنَا وَكُنَّا تُرَابًا وَعِظَامًا أَئِنَّا لَمَبْعُوثُونَ

তারা বলেঃ যখন আমরা মরে যাব এবং মৃত্তিকা ও অস্থিতে পরিণত হব, তখনও কি আমরা পুনরুত্থিত হব ? [ সুরা মু’মিনুন ২৩:৮২ ]

لَقَدْ وُعِدْنَا نَحْنُ وَآبَاؤُنَا هَذَا مِن قَبْلُ إِنْ هَذَا إِلَّا أَسَاطِيرُ الْأَوَّلِينَ

অতীতে আমাদেরকে এবং আমাদের পিতৃপুরুষদেরকে এই ওয়াদাই দেয়া হয়েছে। এটা তো পূর্ববতীদের কল্প-কথা বৈ কিছুই নয়। [ সুরা মু’মিনুন ২৩:৮৩ ]

قُل لِّمَنِ الْأَرْضُ وَمَن فِيهَا إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ

বলুন পৃথিবী এবং পৃথিবীতে যারা আছে, তারা কার? যদি তোমরা জান, তবে বল। [ সুরা মু’মিনুন ২৩:৮৪ ]

سَيَقُولُونَ لِلَّهِ قُلْ أَفَلَا تَذَكَّرُونَ

এখন তারা বলবেঃ সবই আল্লাহর। বলুন, তবুও কি তোমরা চিন্তা কর না? [ সুরা মু’মিনুন ২৩:৮৫ ]

قُلْ مَن رَّبُّ السَّمَاوَاتِ السَّبْعِ وَرَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ

বলুনঃ সপ্তাকাশ ও মহা-আরশের মালিক কে? [ সুরা মু’মিনুন ২৩:৮৬ ]

سَيَقُولُونَ لِلَّهِ قُلْ أَفَلَا تَتَّقُونَ

এখন তারা বলবেঃ আল্লাহ। বলুন, তবুও কি তোমরা ভয় করবে না? [ সুরা মু’মিনুন ২৩:৮৭ ]

قُلْ مَن بِيَدِهِ مَلَكُوتُ كُلِّ شَيْءٍ وَهُوَ يُجِيرُ وَلَا يُجَارُ عَلَيْهِ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ

বলুনঃ তোমাদের জানা থাকলে বল, কার হাতে সব বস্তুর কতৃর্�ত্ব, যিনি রক্ষা করেন এবং যার কবল থেকে কেউ রক্ষা করতে পারে না ? [ সুরা মু’মিনুন ২৩:৮৮ ]

سَيَقُولُونَ لِلَّهِ قُلْ فَأَنَّى تُسْحَرُونَ

এখন তারা বলবেঃ আল্লাহর। বলুনঃ তাহলে কোথা থেকে তোমাদেরকে জাদু করা হচ্ছে? [ সুরা মু’মিনুন ২৩:৮৯ ]

بَلْ أَتَيْنَاهُم بِالْحَقِّ وَإِنَّهُمْ لَكَاذِبُونَ

কিছুই নয়, আমি তাদের কাছে সত্য পৌঁছিয়েছি, আর তারা তো মিথ্যাবাদী। [ সুরা মু’মিনুন ২৩:৯০ ]

مَا اتَّخَذَ اللَّهُ مِن وَلَدٍ وَمَا كَانَ مَعَهُ مِنْ إِلَهٍ إِذًا لَّذَهَبَ كُلُّ إِلَهٍ بِمَا خَلَقَ وَلَعَلَا بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ سُبْحَانَ اللَّهِ عَمَّا يَصِفُونَ

আল্লাহ কোন সন্তান গ্রহণ করেননি এবং তাঁর সাথে কোন মাবুদ নেই। থাকলে প্রত্যেক মাবুদ নিজ নিজ সৃষ্টি নিয়ে চলে যেত এবং একজন অন্যজনের উপর প্রবল হয়ে যেত। তারা যা বলে, তা থেকে আল্লাহ পবিত্র। [ সুরা মু’মিনুন ২৩:৯১ ]

عَالِمِ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ فَتَعَالَى عَمَّا يُشْرِكُونَ

তিনি দৃশ্য ও অদৃশ্যের জ্ঞানী। তারা শরীক করে, তিনি তা থেকে উর্ধ্বে। [ সুরা মু’মিনুন ২৩:৯২ ]

------ ------

এই বিষয়ে আরও জানতে চান?

আমাদের ইফতা বিভাগে সরাসরি প্রশ্ন করুন। অভিজ্ঞ মুফতিগণ আপনার ব্যক্তিগত প্রশ্নের উত্তর দেবেন — সম্পূর্ণ গোপনীয়তা ও নির্ভুলতার সাথে।

নির্ভরযোগ্য গোপনীয় দ্রুত উত্তর

মন্তব্য 0

আপনার মন্তব্য জানান
এখনো কোনো মন্তব্য নেই
প্রথম মন্তব্যকারী হোন! আপনার মতামত আমাদের কাছে মূল্যবান।

লেখকের আরো ব্লগ

আক্বিদা

সালাফী আক্বিদা কেন বাতিল এবং সালাফীরা কেন পথভ্রষ্ট?

ইজহারুল ইসলাম · 14 মার্চ, 2026 · 72
আক্বিদা

মিলাদ ইত্যাদি নিয়ে এতো এতো প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে, এটা ছেড়ে দিলে সমস্যা কোথায়?

ইজহারুল ইসলাম · 14 মার্চ, 2026 · 79
ফিকহ

তারাবীর নামাযের ইমামতির হাদিয়া গ্রহণ: শরয়ী দৃষ্টিকোণ

ইজহারুল ইসলাম · 13 মার্চ, 2026 · 685
আক্বিদা

ইবনে উমর রা: এর শানে ইবনে তাইমিয়ার বেয়াদবি ও শিরকের অপবাদ (১ম পর্ব)

ইজহারুল ইসলাম · 30 জুন, 2023 · 83