ফিকহ

বর্তমানে কি কেউ মুজতাহিদ হতে পারবে না?

ইজহারুল ইসলাম শুক্র, 10 সেপ্টে., 2021
15

শায়খ নাসীরুদ্দীন আলবানী রহ: এর মতে ইবনে তাইমিয়া রহ. কি বিদয়াত করেছেন?

ইবনে তাইমিয়া রহ.এর নিকট আরাফার দিনে গোসল করা সুন্নত। এটি রাসূল স. এর হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। [১]

আলবানী রহ: এর মতে আরাফার দিনে গোসল করা বিদয়াত। [2]

তাহলে আলবানী সাহেবের মতে ইবনে তাইমিয়া রহ. কি বিদয়াত করেছেন?

রেফারেন্স:

[১] মাজমুউল ফাতাওয়া, খ.২৬, পৃ.১৩২

 

http://library.islamweb.net/newlibrary/display_book.php?bk_no=22&ID=2092&idfrom=3357&idto=3453&bookid=22&startno=27

[২] মানাসিকুল হজ্জি ওয়াল উমরা, পৃ.৫১।

 

http://www.alalbany.net/4404

উক্ত বক্তব্যের কমেন্টে এক ভাইয়ের  ভাইয়ের সাথে আমার সংক্ষিপ্ত কথোপকথন

ক: দুইজন পন্ডিতের মধ্যে মতবিরোধ হতেই পারে।

আমার উত্তর: মতবিরোধ যখন হতেই পারে, তখন মাযহাবের বিরুদ্ধে এতো বিষোদগার কেন? মাযহাবের ইমামরা বুঝি পন্ডিত ছিলো না?

ক: অবশ্যই ছিলো।

চার মাযহাবেই হক বিদ্যমান। সেই জন্য চার মাযহাবই মানা প্রয়োজন।  কিন্তু অন্ধভাবে মাজহাব অনুসরণ বা তাকলিদ নয়।  ইসলামে অন্ধভাবে যে কোন এক মাজহাবের অনুসরণ সম্পূর্ণ নিষেধ।

উত্তর:

 আপনারা চোখ খুলে শায়খদের মানেন? আলবানি সাহেব হাজার হাজার হাদীসে স্ববিরোধীতা করেছেেন সেগুলো নিজে কখনো যাচাই করেছেন?

যখন চার মাযহাবকে হক্ব বললেন তখন কেউ চোখ খুলে মানুক আর চোখ বন্ধ করে মানুক, তাতে কিছু যায় আসে না। কারণ সে হক্বকে মানছে। হক্ব হকই। সেটা চোখ বন্ধ করলেও হক, চোখ খুললেও হক। আপনার প্রথম বক্তব্য আর শেষের বক্তব্য সাংঘর্ষিক।

ক: একজন সাধারণ মানুষের পক্ষে যতটুকু যাচাই করা সম্ভব সে ততটুকু যাচাই করবে।

সে যেই মাহজাবের-ই হক্বকে অনুসরণ করুক তাতে কোন সমস্যা নেই, কিন্তু কেউ যদি তাকে বলে তো অমুক আমলটা ঠিক নয়। তখন যদি সে তাহকিক করে দেখে তাহলে সে হকপন্থী। আর যদি বলে- ঠিক, বেঠিক দেখা দরকার নেই, আমার মাহযাবে যা আছে সেটাই আমি মানবো, এবং আমার মাহযাবে যা নেই সেটা আমি মানবো না- তাহলে সে গোঁড়ামি করল। আর এটাই তার জাহান্নামের জন্য যথেষ্ট হতে পারে।

উত্তর:

মাযহাবের প্রতিষ্ঠিত হকের বিরুদ্ধে একজন সাধারণ মানুষের গবেষণার কোন দাম নেই। বিভিন্ন মাসআলায় সাধারণ মানুষকে ধোকা দেয়া হয়। মাযহাবে যেটা আছে সেটা আলেমদের গবেষণা অনুযায়ী কুরআন সুন্নাহ থেকে বের করা হয়েছে। যে তাকে ভুল ধরিয়ে দিচ্ছে তার কথাও যে সঠিক হবে এর কোন নিশ্চয়তা নেই। আবার যেই সাধারণ মানুষ এক সিদ্ধান্তকে ভুল বলে নতুন মত গ্রহণ করছে, তার এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন যে ঠিক তারও কোন নিশ্চয়তা নেই। যেমন, ইবনে তাইমিয়ার মতকে আলবানী সাহেব বিদয়াত বলে দিয়েছে। অথচ আলবানীর এই বক্তব্য যে ঠিক, তার কোন নিশ্চয়তা নেই।

ক: নিশ্চয়তা নেই ঠিক আছে। কিন্তু আপনার দৃষ্টিতে যেটা এখন প্রমানিত হক বলে মনে হবে সেটাই আপনাকে মেনে নিতে হবে। যদি আপনি এই চিন্তায়- বর্তমানে প্রমানিত হক বর্জন করেন যে- এই সিদ্ধান্তই যে ঠিক তারও কোন নিশ্চয়তা নেই এটাও পরিবর্তন হতে পারে, তাহলে সেটা হবে গোঁড়ামি। লোক-লজ্জার ভয়ে যদি নিজেকে পরিবর্তন না করেন তাহলে সেটাতো আবু তালিবের ন্যায় হবে।

উত্তর: সাধারণ মানুষের কোন দৃষ্টি নেই। কুরআন ও সুন্নাহের বিষয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞান অর্জন না করে মতামত দেয়া স্পষ্ট হারাম। সাধারণ মানুষের এই অধিকার নেই যে যখন যেটা হক্ব মনে করে সেটা গ্রহণ করে। সাধারণ মানুষ শিশুর মতো। শরীয়তে তাদের ফতোয়া দেয়া জায়েজ নেই এবং ইচ্ছামতো শরীয়তের মাসআলা পরিবর্তনেরও অধিকার নেই। এই জন্য সে প্রতিষ্ঠিত হক মেনে নিবে। পরবর্তী কারও বক্তব্য যেহেতু সঠিক হওয়ার নিশ্চয়তা নেই এজন্য যেসব বক্তব্যের উপর হাজাার হাজার আলেম আমল করছে সেগুলো মানতে হবে।

ক: তার মানে কি এই জামানায় কেউ আর মুজতাহিদ হতে পারবেন না?

উত্তর:

মুজতাহিদ হতে পারবে না এমন কোন বিধি-নিষেধ নেই। আপনাকে যদি প্রশ্ন করি, ইমাম বোখারী বড় মুহাদ্দিস ছিলেন, এই জামানায় কি তার মতো মুহাদ্দিস হতে পারবে না? পারবে তো অবশ্যই। তবে পেরে তো কোন লাভ নেই। এখন যদি কেউ বলে, আমি ইমাম বোখারী রহ: এর মতো মুহাদ্দিস। আমি আমার বাবা থেকে, সে তার বাবা থেকে এভাবে রাসূল স. পর্যন্ত হাদীস বর্ণনা শুরু করে, তাহলে কি আপনি তাকে মেনে নিবেন? অবশ্যই মানবেন না। এই জামানায় ফিকহের পূর্ব সিদ্ধান্তকৃত বিষয়ে মুজতাহিদ হয়ে কোন লাভ নেই। প্রত্যেকটা মাসআলার গবেষণা চার মাজহাবের মাঝে রয়েছে। ওজুর শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা, সুন্নত, কেউ বলেছেন ওয়াজিব। এখন আপনি মুজতাহিদ হয়ে কী করবেন? একে হারাম বলে দিবেন? শরীয়তের যেসব মাসআলা নিয়ে পূর্বে বিস্তারিত গবেষনা হয়ে গেছে, সেগুলো নিয়ে গবেষণার জন্য নতুন মুজতাহিদের প্রয়োজন নেই। যেমন হাদীস সংকলনের জন্য নতুন মুহাদ্দিসের প্রয়োজন নেই। তবে যেসব নিত্য-নতুন আধুনিক মাসআলার উৎপত্তি হচ্ছে, যেমন শেয়ার বাজার, ব্যাংকিং এগুলো চার মাজহাবের আলোকেই সমাধান করা সম্ভব, চার মাজহাব বাদ দিয়ে নতুন মুজতাহিদরা এগুলো সমাধান করতে সক্ষম নয়। নতুন মুজতাহিদ হওয়ার দাবি যারা করে তারা ইজতেহাদের নামে শরীয়ত নিয়ে তামাশা করে নতুন নতুন বিদয়াত চালু করে।

------ ------

এই বিষয়ে আরও জানতে চান?

আমাদের ইফতা বিভাগে সরাসরি প্রশ্ন করুন। অভিজ্ঞ মুফতিগণ আপনার ব্যক্তিগত প্রশ্নের উত্তর দেবেন — সম্পূর্ণ গোপনীয়তা ও নির্ভুলতার সাথে।

নির্ভরযোগ্য গোপনীয় দ্রুত উত্তর

মন্তব্য 0

আপনার মন্তব্য জানান
এখনো কোনো মন্তব্য নেই
প্রথম মন্তব্যকারী হোন! আপনার মতামত আমাদের কাছে মূল্যবান।

লেখকের আরো ব্লগ

আক্বিদা

সালাফী আক্বিদা কেন বাতিল এবং সালাফীরা কেন পথভ্রষ্ট?

ইজহারুল ইসলাম · 14 মার্চ, 2026 · 72
আক্বিদা

মিলাদ ইত্যাদি নিয়ে এতো এতো প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে, এটা ছেড়ে দিলে সমস্যা কোথায়?

ইজহারুল ইসলাম · 14 মার্চ, 2026 · 79
ফিকহ

তারাবীর নামাযের ইমামতির হাদিয়া গ্রহণ: শরয়ী দৃষ্টিকোণ

ইজহারুল ইসলাম · 13 মার্চ, 2026 · 685
আক্বিদা

ইবনে উমর রা: এর শানে ইবনে তাইমিয়ার বেয়াদবি ও শিরকের অপবাদ (১ম পর্ব)

ইজহারুল ইসলাম · 30 জুন, 2023 · 83