আক্বিদা

নবীজীর শানে বিবাহ পূর্ব প্রেমের কাহিনীর মাধ্যমে জঘন্য পর্যায়ের গোস্তাখী

ইজহারুল ইসলাম মঙ্গল, 13 জুন, 2023
38

আমাদের কালিমার দু’টি অংশ। আল্লাহ তায়ালাকে এক ও অদ্বিতীয় একমাত্র ইবাদতের উপযুক্ত সত্ত্বা হিসেবে বিশ্বাস করা। সেই সাথে রহমাতুল্লীল আলামিন, শাফিউল মুজনিবীন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সর্বশেষ নবী হিসেবে মনে-প্রাণে বিশ্বাস করা। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ঈমানের একটি বড় অংশ হলো নবীজীর আজমত, মহব্বত করা। এমনকি নিজের পিতা-মাতা, ছেলে-সন্তান বরং পুরো দুনিয়ার সমস্ত মানুষের চেয়ে নবীজীকে বেশি মহব্বত করা। 

 

নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ঈমানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো নবীজীর যথার্থ শান-মান রক্ষার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা। সর্বোচ্চ আদব ও ইহতিরাম বজায় রাখা। সামান্যতম বেয়াদবি বা ইশারা - ইঙ্গিতে নবীজীর শান-মান নিয়ে গোস্তাখী করাটাও ঈমানের জন্য খতরনাক। 

 

দু:খজনক বিষয় হলো, বর্তমান মুসলিমদের মাঝে ঈমানী গাইরত কমে যাওয়ার কারণে তাদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ছে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে চরম গোস্তাখীপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়। এই সব গোস্তাখীপূর্ণ বিষয় যদি সাধারণ কোন মূর্খ ব্যক্তি থেকে প্রকাশ পেত তাহলেও এক ধরণের ওজরখাহির সুযোগ ছিলো, পরিতাপের বিষয় হলো নবীজীর শানে সীমাহীন গোস্তাখিপূর্ণ বিষয় এখন উলামাদের লেবাস পরা বিভিন্ন ব্যক্তি থেকে প্রকাশিত হচ্ছে। 

 

আল্লাহর পক্ষ থেকে মনোনীত নবী-রাসূলগণের নবী বা রাসূল হওয়ার পূর্বশর্ত হলো সব ধরণের নিন্দনীয় দোষ - ত্রুটি থেকে মুক্ত হওয়া। এজন্য কোন মিথ্যুক, চোর, ধোঁকাবাজ বা এজাতীয় নিন্দনীয় ব্যক্তি কখনও নবী বা রাসূল হতে পারেন না। 

 

একইভাবে নবী - রাসূলগণ সব ধরণের চারিত্রিক দোষ - ত্রুটি থেকে সম্পূর্ণ পুত: পবিত্র হয়ে থাকেন। তারা জিনা-ব্যভিচার, বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক বা প্রেম থেকেও সম্পূর্ণ মুক্ত ও পবিত্র হয়ে থাকেন। 

 

নবী - রাসূলগণের সাথে বেয়াদবির ক্ষেত্রে স্বাভাবিক যে কোন কথা বা কাজের মাধ্যমে বেয়াদবি যেখানে কুফরী ও রিদ্দা হিসেবে বিবেচিত হয়, সেখানে কেউ যদি তাদের জন্য এমন জিনিস সাব্যস্ত করে যা তাদের নবী হওয়ার শর্ত থেকেই বাতিল করে দেয়, তাহলে সেটি কত বড় গোস্তাখী একটু চিন্তা করে দেখুন। 

 

কেউ যদি কোন নবীকে মিথ্যুক বলে কিংবা চোর বলে, এটি নবী বা রাসূলের সাথে অত্যন্ত গর্হিত পর্যায়ের গোস্তাখী। মিথ্যা, চুরি বা এজাতীয় গোস্তাখীর চেয়েও হাজারগুণ গর্হিত গোস্তাখী হলো নবী - রাসূলের চারিত্রিক বিষয়ে গোস্তাখী করা। কেউ যদি নাউজুবিল্লাহ কোন নবী - রাসূলের জন্য বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক বা প্রেম-পিরিতি সাব্যস্ত করে, তাহলে সে উক্ত নবী বা রাসূলের মিথ্যা, চুরি ইত্যাদি বলার চেয়েও জঘন্য গোস্তাখী করল। কেউ কি এমন ব্যক্তিকে নবী হিসেবে মেনে নিবেন যিনি বিয়ের আগে প্রেম করেন? পৃথিবীর কোন সুস্থ্য বিবেকবান মানুষ কি তাকে রাসূল হিসেবে মানবে?

 

এজন্য নবী - রাসূলগণের ব্যাপারে চারিত্রিক কালিমা লেপন করা তাদের উপর করা সবচেয়ে নিকৃষ্ট স্তরের গোস্তাখী। বর্তমানে কেউ কেউ রহমাতুল্লালিল আলামীন, শাফিউল মুজনিবীন সারওয়ারে কায়েনাতের উপর নেক সুরতে এধরণের চরম জঘন্য গোস্তাখী করার চেষ্টা চালিয়েছে। তারা কাসিম বিন আবু বকরের মতো বিয়ের পূর্বে কাল্পনিক প্রেম - কাহিনী রচনা করেছে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য। নাউজুবিল্লাহ। সুম্মা নাউজুবিল্লাহ। কাসিম বিন আবু বকর যেমন বিবাহ-বহির্ভূত প্রেম নিয়ে উপন্যাস লিখেছে, প্রেম-ভালোবাসার সবই ঠিক রেখেছে, শুধু এটাকে ইসলামী ফ্লেভার দেয়ার জন্য পবিত্র প্রেম হিসেবে উপস্থাপন করেছে, বর্তমানে কিছু গোস্তাখে রাসূলও একই কাজ করেছে নবীজীর শানে। 


 

উম্মুল মু’মিনীন হযরত খাদিজা রাজিয়াল্লাহ এর সাথে নবীজীর বিবাহকে কাসিম বিন আবু বকরের মতো একটি কাল্পনিক পবিত্র প্রেমের গল্প বা উপন্যাস হিসেবে তুলে ধরেছে। অথচ এই গোস্তাখে রাসূলরা এটা চিন্তা করেনি বিয়ের আগের প্রেমের সাথে শুধু পবিত্র যোগ করে দিলেই সেটা পবিত্র হয়ে যায় না। এর মাধ্যমে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও উম্মুল মু’মিনীন হযরত খাদিজার উপর চারিত্রিক ত্রুটি আরোপ করা হয়। এটা তো খুব স্বাভাবিক বিষয় যে, বিয়ের আগে প্রেম করা ব্যক্তি নবী হওয়ারই যোগ্য থাকেন না। এর চেয়ে নবীজীর উপর বড় গোস্তাখী আর  শাতম আর কী হতে পারে? নবীজীকে চুরি, মিথ্যা বা এরকম কোন কিছুর অভিযোগ দিলেও সেটি এর চেয়ে হালকা গালি হতো। 

 

পুরো পশ্চিমা বিশ্বা এবং ওরিয়েন্টালিস্টদের ষড়যন্ত্র ছিলো নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর এজাতীয় চারিত্রিক কালিমা লেপন করা। যা এখনও  নাস্তিকরা হার-হামেশা বলে থাকে। অথচ সেগুলো আরও আবেদনময় করে আমাদের লোকেরা সাহিত্যের নামে লিখছে। ইয়া আসাফা। তারা উম্মাহাতুল মু'মিনীনের মধ্যে হযরত খাদিজা রাজিয়াল্লাহু আনহা, হযরত আয়েশা রাজিয়াল্লাহু আনহা ও হযরত জয়নব রাজিয়াল্লাহু কার ব্যাপারে এই জাতীয় জঘন্য নোংরা আপত্তি তোলেনি? নাস্তিকদের এই সব নোংরা আপত্তি যদি আপনারা ভালোবাসা ও মহব্বতের ছদ্মাবরণে কিংবা পবিত্র প্রেম হিসেবে তুলে ধরেন, এতেই কি তাদের এই গোস্তাখী মাফ হয়ে যাবে? 

 

নবীজীর শানে এধরণের চারিত্রিক গোস্তাখী করার শরয়ী হুকুম কী?

 

  • নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সামান্যতম গোস্তাখী ও বেয়াদবিও কুফর ও রিদ্দা। সেখানে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর চারিত্রিক কালিমা লেপন হয় এজাতীয় গোস্তাখী নিকৃষ্ট পর্যায়ের কুফর ও রিদ্দা। 

 

  • যারা এধরণের নিকৃষ্ট কাজ করবে তারা কাফের ও মুরতাদ হয়ে যাবে। 

 

  • নিচে এধরণের গর্হিত গোস্তাখীকারী কিছু ব্যক্তির বই থেকে তাদের গোস্তাখী তুলে ধরা হয়েছে। তাদের ব্যাপারে হুকুম হলো, তাদেরকে তাদের গোস্তাখী ও বেয়াদবির ব্যাপারে সতর্ক করে তওবার আহ্বান করা হবে। তারা যদি অন্তর থেকে তওবা করে এবং তাদের এই সব লেখনী বাজেয়াপ্ত করাসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে তওবা করে তাহলে তাদের তওবার সুযোগ দেয়া হবে। নতুবা তাদের উপর হুজ্জ্বত কায়েম করার পরও  তারা যদি তাদের গোস্তাখীর উপর অটল-অবিচল থাকে, ভুল স্বীকার না করে নানা রকম গোঁড়ামী করতে থাকে তাহলে তাদের হুকুম কাফের ও মুরতাদদের মতো হবে। 



 

নোট:

এখানে যাদের বক্তব্য শেয়ার করা হয়েছে এর মধ্যে মাওলানা আমান বিন সাইফ প্রকাশ্যে ভিডিওতে এসে তার কর্মকান্ডের জন্য তওবা করেছে। তার বইয়ের সব কপি পুড়িয়ে ফেলাসহ নানা রকম পদক্ষেপ নেয়ার অভিব্যক্তি ব্যক্ত করেছে। এজন্য এখানে শুধু সতর্কতার  জন্য বিষয়টি উল্লেখ করা হচ্ছে। তবে ব্যক্তি আমানের তওবার বিষয়টিও সামনে রাখতে হবে। আমান বিন সাইফ ছাড়া অন্য কারও তওবার বিষয়ে আমরা এখনও কোন সংবাদ পাইনি। তাদের তওবার বিষয়টি প্রকাশ্যে এলেও তাদের তওবা গ্রহণের বিষয়ে হানাফী মাজহাব সহ জমহুর উলামাদের অবস্থান গ্রহণ করতে হবে। এক্ষেত্রে গোস্তাখে রাসূল বা শাতিমের তওবা কবুল হবে না এবং তাকে হত্যাই করতে হবে, এজাতীয় মতামতের সাথে আমরা একমত নই। বরং হানাফী মাজহাবের গ্রহণযোগ্য ফতোয়া হলো শাতিম বা গোস্তাখের তওবা কবুল করা হবে। 

আমরা শীঘ্রই গোস্তাখে রাসূল বা শাতিমের শরয়ী হুকুমের উপর ইমামগণের বক্তব্য সম্বলিত বিস্তারিত লেখা আনব ইনশা আল্লাহ। 


 

১। মাওলানা আবু তাহের মেসবাহ
 

 

২। মাওলানা ইয়াহইয়া ইউসুফ নদভী




















 

৩। মাওলানা সালাহুদ্দীন জাহাঙ্গীর

 




 






 

৪। মাওলানা আমান বিন সাইফ




 

 

৫। ইসমাইল জাবিহুল্লাহ 

 

 




















 

৬। আহমাদ ইসহাকের চরম গোস্তাখীপূর্ণ কবিতা 








 



 







 

৭। সালাহুদ্দীন জাহাঙ্গীরের গোস্তাখীপূর্ণ নোংরা চটি কবিতা


 




 





 

------ ------

এই বিষয়ে আরও জানতে চান?

আমাদের ইফতা বিভাগে সরাসরি প্রশ্ন করুন। অভিজ্ঞ মুফতিগণ আপনার ব্যক্তিগত প্রশ্নের উত্তর দেবেন — সম্পূর্ণ গোপনীয়তা ও নির্ভুলতার সাথে।

নির্ভরযোগ্য গোপনীয় দ্রুত উত্তর

মন্তব্য 0

আপনার মন্তব্য জানান
এখনো কোনো মন্তব্য নেই
প্রথম মন্তব্যকারী হোন! আপনার মতামত আমাদের কাছে মূল্যবান।

লেখকের আরো ব্লগ

আক্বিদা

সালাফী আক্বিদা কেন বাতিল এবং সালাফীরা কেন পথভ্রষ্ট?

ইজহারুল ইসলাম · 14 মার্চ, 2026 · 71
আক্বিদা

মিলাদ ইত্যাদি নিয়ে এতো এতো প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে, এটা ছেড়ে দিলে সমস্যা কোথায়?

ইজহারুল ইসলাম · 14 মার্চ, 2026 · 78
ফিকহ

তারাবীর নামাযের ইমামতির হাদিয়া গ্রহণ: শরয়ী দৃষ্টিকোণ

ইজহারুল ইসলাম · 13 মার্চ, 2026 · 683
আক্বিদা

ইবনে উমর রা: এর শানে ইবনে তাইমিয়ার বেয়াদবি ও শিরকের অপবাদ (১ম পর্ব)

ইজহারুল ইসলাম · 30 জুন, 2023 · 79