আক্বিদা

বিন-লা-দেনের তাকিফিরি-খারিজি চিন্তা-চেতনা (২)

ইজহারুল ইসলাম বুধ, 25 জান., 2023
22

বিন - লা-দেন সৌদি বাদশাহ ফাহা-দকে মুর-তাদ মনে করতেন। পুরো সৌদি শাসন ব্যবস্থাকে কাফের ও মুরতাদ মনে করতেন।

একটি চিঠিতে তিনি তাদেরকে কাফের মনে করার মৌলিক কারণগুলো সবিস্তারে আলোচনা করেছেন। আমরা এখানে বিন-লা-দেনের সেই চিন্তাগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরার চেষ্টা করছি। এগুলোর বিস্তারিত খন্ডন ইনশা আল্লাহ ভিডিওতে আসবে আমাদের খারেজিয়াত সিরিজে।

চিঠির শুরুতে তিনি বাদশার সাথে তার বিরোধের মূল কারণগুলো উল্লেখ করেছেন। তিনি মনে করেন, বাদশা ও তার সরকারের মধ্যে ইসলামের মৌলিক আকিদা বিরোধী অনেক বিষয় রয়েছে। তাদের শাসন ব্যবস্থা মৌলিকভাবে লা-ইলাহা ও তাওহীদের মূল দাবীর সাথে সাঘর্ষিক। এ বিষয়ে বিন লা-দেন বলেন,

فهذه الأمور المهمة سنعرض لبعضها لاحقا بعد أن نعرض أولا لجوهر الخلاف معك وأساسه الذي هو خروج نظام حكمك عن مقتضيات لا إله إلا الله ولوازمها التي هي أساس التوحيد الفارق بين الكفر والإيمان لأن كل تلك الأمور

ناجمة عن خروجك ونظام حكمك عن مقتضيات التوحيد

এরপর তিনি বাদশাহ ফাহাদের মুরতাদ হওয়ার দু'টি মৌলিক কারণ উল্লেখ করেন।

১। আল্লাহর আইন ছাড়া অন্য আইনে রাষ্ট্র পরিচালনা

এ বিষয়ে বিন - লা-দেন বলেন,

أولا: حكمك بغير ما أنزل الله وتشريعك له

لقد تواترت نصوص القرآن والسنة وأقوال علماء الأمة على أن كل من سَّوغ لنفسه أو لغيره اتباع تشريٍع وضعي أو قانوٍن بشري مخالف ٍ لحكم الله، فهوكافٌر خارٌج عن المِلة.

প্রথম কারণ: আল্লাহর আইন ছাড়া অন্য আইনে বিচার এবং এটাকে রাষ্ট্রীয় আইন বানিয়ে নেয়া।

কুরআনের ও সুন্নাহের অসংখ্য মুতাওয়াতির বর্ণনাসমূহ এবং উলামায়ে কেরামের বক্তব্য দ্বারা প্রমাণিত যে, যে ব্যক্তি নিজের জন্য অথবা অন্যের জন্য নিজেদের বানান সংবিধান অথবা আল্লাহর আইন বিরোধী মানুষের বানান আইন-কাুনুন অনুসরণের অনুমতি দেয়, সে কাফের ও মুরতাদ।

এ বিষয়ে তিনি কুরআনের আয়াতের পাশাপাশি পূর্ববর্তী নজদী উলামাদের বিভিন্ন বক্তব্য উল্লেখ করেন। বিশেষ করে পূর্ববর্তী নজদী আলিমরা কীভাবে তাদের সময়ে এ বিষয়ের কারণে তাকফির করেছেন, তার নমুনাও উল্লেখ করেছেন। বিন-লা-দেন বলেন,

ويقول الشيخ محمد بن ابراهيم آل الشيخ – مفتي المملكة سابقا – رحمه الله: "إن من الكفر الأكبر المستبين تنزيل القانون اللعين منزلة ما نزل به الروح الأمين على قلب محمد صلى الله عليه وسلم ليكون من المنذرين بلسان عربي مبين في الحكم به بين العالمين والرد إليه عند تنازع المتنازعين"

ويقول في رسالٍة وجهها إلى أمير الريض – في وقته – بشأن القوانين الوضعية التي يتحاكم إليها في الغرفة التجارية

بالريض وبيان أنها كفر ناقل عن الملة:

এরপর তিনি সৌদির প্রচলিত বিভিন্ন কুফুরী আইনের উদাহরণ উল্লেখ করেন,

بقي أن نذكرك بما تمارسه أنت ونظام حكمك من تحكيم لهذه القوانين الكفرية وتعطيل لأحكام الله الشرعية. إن الإنسان العادي – فضلا عن الباحث المدقق – لا يجد عناء في إثبات أنك ونظام حكمك مشرعون ومحكمون للقوانين الوضعية وملزمون الناس بالتحاكم إليها، فنظرة خاطفة على لوائح المحاكم التجارية والقوانين التي تشرع وتبيح المعاملات الربوبية في البنوك وغيرها، وقانون العمل والعمال وقانون الجيش العربي السعودي، وغير ذلك من القوانين الكفرية التي

تؤكد المدى الذي وصل إليه تحكيم هذه القوانين الكفرية من التوسع والنفوذ داخل البلاد.

এখানে তিনি বলেন, এটা খুব স্পষ্ট যে সৌদির শাসন ব্যবস্থায় আল্লাহ আইন ছাড়া অন্য আইনে দেশ পরিচালিত হয়। যেমন, বিভিন্ন ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও চুক্তি, বিশেষ করে সেসব আইন-কানুন যেগুলো সুদী ব্যাংকিং পদ্ধতিকে অনুমোদন দেয় এবং এর আলোকে পরিচালিত হয়। একইভাবে শ্রমিক ও তাদের শ্রম বিষয়ক নীতিমালা। সৌদি সেনাবাহিনীর বিভিন্ন আইন-কানুন। এজাতীয় বহু কুফুরী আইন দেশে প্রচলিত রয়েছে।

২। কাফেরদের সাথে বন্ধুত্ব ও মুসলিমদের সাথে শত্রুতা

বিন লা-দেন বাদশাহ ফাহাদের কুফুরীর দ্বিতীয় কারণ লিখেছেন,

الوجه الثاني: موالاة الكتار وملاداة المسلمين

বিন লা-দেন মূলত: মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত যে কোন দেশের সাথে সম্পর্ক বা সহযোগিতাকে মুরতাদ হওয়ার কারণ মনে করেন। তিনি লিখেছেন,

ليست هنالك سمة للسياسة الخارجية في نظام حكمكم أبرز من ربطكم إيا بمصالح الدول الغربية والصليبية والأنظمة الطاغوتية في البلاد الإسلامية، ومثبت هذه الحقيقة لا يحتاج إلى كثير عناء فالقاصي قبل الداني يعرف مدى هذا الإرتباط، فنظام حكمكم الذي يتبجح بحماية العقيدة وخدمة الحرمين هو الذي أعلن عن دفع أربعة مليارات من الدولارات مساعدة للاتَاد السوڤيتي السابق الذي لم يغسل بعد يديه الملطخة بدماء الشعب المسلم في أفغانستان، وذلك

سنة 1991 م.

সৌদির পররাষ্ট্রনীতির একটা অংশ হলো পশ্চিমা বিভিন্ন দেশ, ক্রুসেডার ও বিভিন্ন তাগুত সংঘঠনের সাথে সম্পর্ক রাখা। এই সম্পর্ক প্রমাণের জন্য বিশেষ কষ্ট-ক্লেশের প্রয়োজন নেই। যে কেউ এই সস্পর্কের কথা জানে। তোমাদের যেই প্রশাসন আকিদা ও হারামাইনের খেদমত নিয়ে খুব গর্ব করে তারাই সোভিয়েত ইউনিয়নকে চার মিলিয়ন ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে। যেই সোভিয়েত ১৯৯১ তে আফগানদের রক্ত ঝরিয়েছে।

এরপরে তিনি তাকফির করে লিখেছেন,

إن مما لاشك فيه ولا نزاع بين العلماء أن موالاة الكفار ومناصرتهم ضد المسلمين تعتبر ناقضا قطعيا من نواقض

الإسلام

এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই এবং আলিমদের মধ্যে এ বিষয়ে কোন মতবিরোধ নেই যে, কাফেরদের সাথে সুসম্পর্ক বা বন্ধুত্ব এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে তাদেরকে সাহায্য করাকে ঈমান ভঙ্গের অকাট্য কারণসমূহের একটি গণ্য করা হয়।

এখানে একটা ছোট্ট প্রশ্ন রেখে যেতে চাই, উই-ঘুরদের উপর নির্যাতনকারীদের সাথে বিভিন্ন ধরণের সুসম্পর্কমূলক চুক্তি করা বা তাদেরকে বিভিন্ন খনিজ পদার্থ উত্তোলনের জন্য নিয়োগ দেয়ার বিধান কী? বিন-লা-দেনের উসূলের আলোকে এদেরকে কী বলা হবে?

 

 

------ ------

এই বিষয়ে আরও জানতে চান?

আমাদের ইফতা বিভাগে সরাসরি প্রশ্ন করুন। অভিজ্ঞ মুফতিগণ আপনার ব্যক্তিগত প্রশ্নের উত্তর দেবেন — সম্পূর্ণ গোপনীয়তা ও নির্ভুলতার সাথে।

নির্ভরযোগ্য গোপনীয় দ্রুত উত্তর

মন্তব্য 0

আপনার মন্তব্য জানান
এখনো কোনো মন্তব্য নেই
প্রথম মন্তব্যকারী হোন! আপনার মতামত আমাদের কাছে মূল্যবান।

লেখকের আরো ব্লগ

আক্বিদা

সালাফী আক্বিদা কেন বাতিল এবং সালাফীরা কেন পথভ্রষ্ট?

ইজহারুল ইসলাম · 14 মার্চ, 2026 · 72
আক্বিদা

মিলাদ ইত্যাদি নিয়ে এতো এতো প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে, এটা ছেড়ে দিলে সমস্যা কোথায়?

ইজহারুল ইসলাম · 14 মার্চ, 2026 · 79
ফিকহ

তারাবীর নামাযের ইমামতির হাদিয়া গ্রহণ: শরয়ী দৃষ্টিকোণ

ইজহারুল ইসলাম · 13 মার্চ, 2026 · 685
আক্বিদা

ইবনে উমর রা: এর শানে ইবনে তাইমিয়ার বেয়াদবি ও শিরকের অপবাদ (১ম পর্ব)

ইজহারুল ইসলাম · 30 জুন, 2023 · 83