ইতিহাস

ইতিহাসের পাতা থেকে

ইজহারুল ইসলাম সোম, 13 সেপ্টে., 2021
15

আখবারু আবি হানিফা ও আসহাবিহী-তে আল্লামা সাইমারি রহ. উল্লেখ করেছেন,

একদা ঈসা ইবনে হারুন রহ. আব্বাসীয় খলিফা মামুনের নিকট বেশ কিছু হাদিস সংকলিত একটি কিতাব নিয়ে এলেন।

তিনি বললেন,


هذه الأحاديث سمعتها معك من المشايخ الذين كان الرشيد يختارهم لك، و قد صارت غاشية مجلسك الذين يخالفون هذه الأحاديث-يريد أصحاب أبي حنيفة-فإن كان ما هؤلاء علي الحق: فقد كان الرشيد فيما يختار لك علي الخطأ، وإن كان الرشيد علي الصواب: فينبغي لك أن تنفي عنك أصحاب الخطأ.

অর্থাৎ (হে খলিফাতুল মুসলিমীন) খলিফা হারুনুর রশিদ আপনার জন্য কিছু মুহাদ্দিস নির্বাচন করেছিলেন। তাঁদের কাছ থেকে আপনি ও আমি এই হাদিসগুলো শুনেছি। অথচ আপনার সভাসদবর্গ এসব হাদিসের বিরোধিতা করে থাকে। (এর দ্বারা তিনি ইমাম আবু হানিফা (রহ:) এর অনুসারীদেরকে উদ্দেশ্য নিয়েছেন)। এরা যদি সঠিক হয়, তবে খলিফা হারুনুর রশিদের পক্ষ থেকে আপনার জন্য নির্বাচিত মুহাদ্দিসগণ ভুল সাব্যস্ত হবেন। আর মুহাদ্দিসগণ যদি সত্যের উপর থাকেন, তবে সভাসদবর্গকে দরবার থেকে বের করে দেয়া উচিত।

বাদশাহ মামুন তার কাছ থেকে কিতাবটি নিয়ে বললেন,


لعل للقوم حجة و أنا سائلهم عن ذلك.

হয়ত তাদের নিকট শক্তিশালী কোন দলিল রয়েছে। এ সম্পর্র্কে আমি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করবো

এরপর তিনি ঈসা ইবনে হারুন রহ. এর দেয়া কিতাবটি একের পর এক তিন ব্যক্তিকে দিলেন। কেউ তাঁকে সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারল না। সংবাদটি ঈসা ইবনে আবান রহ. এর কাছে পৌঁছলো। তিনি পূর্বে খলিফা মামুনুর রশিদের দরবারে আসতেন না।

এ ঘটনা শুনে তিনি ‘আল-হুজ্জাতুস সগীর’ নামে একটি কিতাব লেখেন। এ কিতাবে তিনি তাদের অভিযোগগুলো সম্পর্কে বিশদ আলোচনা করেন। তিনি হাদিসের প্রকারভেদ, হাদিস বর্ণনার পদ্ধতি, বিরোধপূর্ণ হাদিসের কোনটি গ্রহণযোগ্য ও কোনটি পরিত্যাজ্য এবং পরস্পরবিরোধী হাদিসের ক্ষেত্রে করণীয় সস্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। প্রত্যেক হাদিসের জন্য একটি অধ্যায় বা পরিচ্ছেদ তৈরি করেন। প্রত্যেক পরিচ্ছেদে ইমাম আবু হানীফার রহ. মাজহাব, তাঁর দলিল, এ সম্পর্কিত হাদিস ও কিয়াস উল্লেখ করেন।

কিতাবটি খলিফা মামুনের হাতে পৌঁছলে তিনি তা পড়ে বললেন,


هذا جواب القوم اللازم لهم.

এটা তাদের পক্ষ থেকে সমুচিত জওয়াব।

এরপর তিনি নিচের কবিতা আবৃত্তি করেন,


حسدوا الفتي إذا لم ينالوا سعيه فالناس أعداء لها و خصوم
كضرائر الحسناء قلن لزوجها حسدا و بغيا: إنه لذميم

মানুষ সেই যুবকের মর্যাদা ও উচ্চাসন লাভ করতে না পেরে তাঁর সাথে শত্রুতা ও বিদ্বেষ পোষণ করছে। যেমন নারীরা হিংসা ও বিদ্বেষ বশত তাদের সুন্দরী সতিনের মন্দচারিতা স্বামীর কাছে প্রকাশ করে থাকে।

------ ------

এই বিষয়ে আরও জানতে চান?

আমাদের ইফতা বিভাগে সরাসরি প্রশ্ন করুন। অভিজ্ঞ মুফতিগণ আপনার ব্যক্তিগত প্রশ্নের উত্তর দেবেন — সম্পূর্ণ গোপনীয়তা ও নির্ভুলতার সাথে।

নির্ভরযোগ্য গোপনীয় দ্রুত উত্তর

মন্তব্য 0

আপনার মন্তব্য জানান
এখনো কোনো মন্তব্য নেই
প্রথম মন্তব্যকারী হোন! আপনার মতামত আমাদের কাছে মূল্যবান।

লেখকের আরো ব্লগ

আক্বিদা

সালাফী আক্বিদা কেন বাতিল এবং সালাফীরা কেন পথভ্রষ্ট?

ইজহারুল ইসলাম · 14 মার্চ, 2026 · 72
আক্বিদা

মিলাদ ইত্যাদি নিয়ে এতো এতো প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে, এটা ছেড়ে দিলে সমস্যা কোথায়?

ইজহারুল ইসলাম · 14 মার্চ, 2026 · 79
ফিকহ

তারাবীর নামাযের ইমামতির হাদিয়া গ্রহণ: শরয়ী দৃষ্টিকোণ

ইজহারুল ইসলাম · 13 মার্চ, 2026 · 685
আক্বিদা

ইবনে উমর রা: এর শানে ইবনে তাইমিয়ার বেয়াদবি ও শিরকের অপবাদ (১ম পর্ব)

ইজহারুল ইসলাম · 30 জুন, 2023 · 83